নিজস্ব প্রতিবেদক | জনতার কন্ঠ—
চার দেয়ালের ভেতর নীরবতা, প্রার্থনা আর দীর্ঘ চিকিৎসার অপেক্ষা—এভাবেই এবছর জন্মদিন কাটছে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অগ্রদূত ইলিয়াস কাঞ্চন-এর। নেই কোনো কেক, নেই উৎসবের আলো; আছে শুধু সুস্থ হয়ে ওঠার প্রত্যাশা আর কোটি মানুষের দোয়া।
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় সাত মাস ধরে চিকিৎসাধীন এই গুণী অভিনেতা উন্নত চিকিৎসার জন্য ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন। পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্যে থেকে সেখানে চলছে তার রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি চিকিৎসা। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট অংশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিকভাবেও আগের তুলনায় ভালো আছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। জন্মদিনে কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থাকলেও ঘনিষ্ঠজনদের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় শান্তভাবেই দিনটি কেটেছে তার।
ইলিয়াস কাঞ্চন কেবল একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতাই নন, তিনি সংগ্রাম ও মানবিকতার প্রতীক। চলচ্চিত্রের পর্দায় যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, বাস্তব জীবনেও তেমনি স্ত্রীকে সড়ক দুর্ঘটনায় হারানোর পর ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের সড়ক নিরাপত্তা প্রশ্নে তিনি হয়ে উঠেছেন সাহসী কণ্ঠস্বর। এই আন্দোলন আজ জাতীয় চেতনার অংশ।
রোমান্টিক, সামাজিক, লোকজ ও প্রতিবাদী—সব ধরনের চরিত্রে নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেতা এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন চরিত্রে অভিনয় করছেন—রোগের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ে। তবুও তিনি আশাবাদী। ঘনিষ্ঠজনদের ভাষায়, সুস্থ হয়ে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর স্বপ্নই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে।
আজ তার জন্মদিনে ভক্ত-অনুরাগীদের একটাই প্রার্থনা—
যিনি সারাজীবন মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনের পক্ষে কথা বলেছেন, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝেই ফিরে আসেন।