ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও টহলের মাধ্যমে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) পৃথক চারটি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সময় নারী ও শিশুসহ ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার রাজাপুর ও মাধবখালী সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে ২ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ২৩ বোতল ভারতীয় আমদানিকৃত সিরাপ এবং ১৪০ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব মাদক সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া, পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় মোট ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। এর মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ৫ জন এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার সময় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়। তারা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, মুন্সিগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা বলে বিজিবি জানিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে কিংবা বিভিন্ন কাজে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা করছিল।
৫৮ বিজিবি আরও জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ দেখানো হয়েছে।
বিজিবি কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান, মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও আকস্মিক অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, মহেশপুর সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অবৈধ পারাপারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে সম্প্রতি বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর অবস্থানের কারণে এসব অপরাধ কার্যক্রম অনেকাংশে কমে এসেছে।
বিজিবি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।