
নিজস্ব প্রতিবেদক |
শনিবার (৮নভেম্বর) সকালে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়– খুচরা দোকানগুলোতে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা, লাল লেয়ার ৩০০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি ৩২০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬০০ টাকা কেজি দরে। আর দেশি হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়।
মুরগি বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, আমাদের হাতে কোনো কিছু নেই। খামারে খাদ্যের দাম বেড়েছে, বাচ্চার দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচও আগের চেয়ে অনেক বেশি। পাইকারি বাজার থেকে ১৫০ টাকায় কিনে ১৭০ টাকায় বিক্রি করি, তাতেও লাভ বলতে কিছু থাকে না। ক্রেতারা গালাগাল দেন, কিন্তু দাম বাড়াচ্ছে খামার ও সরবরাহকারীরা।
রবিউল আলম নামের আরেক খুচরা বিক্রেতা বলেন, মুরগির বাজার এখন পুরোপুরি খামার নির্ভর। খাদ্যের দাম আর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। আমরা অনেক সময় পুরোনো দামে বিক্রি করলেও পরে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হয়। মানুষ ভাবছে আমরা দাম বাড়াচ্ছি, আসলে আমরাও বিপাকে।
এমন অবস্থায় ক্রেতারা বলছেন, ঊর্ধ্বগতির বাজারে ব্রয়লারেই ভরসা রাখতে হচ্ছে।
মাহমুদুল হাসান নামের এক ক্রেতা বলেন, দেশি মুরগি তো এখন একেবারে নাগালের বাইরে। কমের মধ্যে ব্রয়লার মুরগিই রয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ব্রয়লার মুরগিই কিনতে হচ্ছে। আর দামের ক্ষেত্রে তো কোনো নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই।
গতবছরও শীতের মৌসুমে দেখেছি দেশি হাঁস পিস প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ বছর বিক্রেতারা কেজি হিসেবে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি করছে। এগুলো দেখারও কেউ নেই।
মাংসের বাজারেও দাম বেশ চড়া। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, আর খাসির মাংস ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে, মাছের বাজারে আগের মতোই দাম রয়েছে। বড় রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা ও ছোট রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে। কাতল মাছের দাম ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং মাছ ৫৫০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা, এবং তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২২০ টাকা, সিলকার্প মাছ ২৫০-৩০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, কালিবাউশ মাছ ৪৫০ টাকা, আইড় মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া অন্যান্য মাছের মধ্যে ছোট চিংড়ি ৩০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪৫০ টাকা, মলা মাছ ৩০০ টাকা, পাবদা মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি আকারভেদে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।