1. dailyjonotarkontho01@gmail.com : দৈনিক জনতার কন্ঠ : দৈনিক জনতার কন্ঠ
  2. dailyjonotarkonthonewseditor@gmail.com : Mr Masud Rana : Mr Masud Rana
  3. live@www.dailyjonotarkontho.com : দৈনিক জনতার কন্ঠ : দৈনিক জনতার কন্ঠ
  4. info@www.dailyjonotarkontho.com : দৈনিক জনতার কন্ঠ :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
হরিপুরে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন হারেজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত আজ ভোরে আবারও কেঁপে উঠল দেশ আজ পবিত্র শবে বরাত: পুণ্যময় রজনীর আহ্বান রাজশাহী তানোরে বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে হোক ভোট প্রতিটি পরিবারে এই আহ্বান ও বৃহৎতম মিছিল এবং পথসভা। দেশজুড়ে শক্ত অবস্থানে জাতীয়তাবাদী দল বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার চট্টগ্রাম মহানগর ১৭ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা রাজশাহী প্রেসক্লাবের বার্ষিক মিলনমেলা ও বনভোজন আজ হরিপুরে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত গাজীপুর কোনাবাড়ী আমবাগে আটো রিক্সা ছিনতায়ের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন।

বিজ্ঞাপন দিন

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে রাতের অন্ধকারে উর্বর ধানি জমি খনন করে তৈরি হচ্ছে পুকুর।

হাসমত, স্টাফ রিপোর্টার |
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে
৫৫

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে রাতের অন্ধকারে উর্বর ধানি জমি খনন করে তৈরি হচ্ছে পুকুর। দেখার মত কেউ নেই। স্থানীয়রা বলছেন প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে ম্যানেজ করেই  হচ্ছে শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের সকল জায়গায় পুকুর খনন। সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত রাস্তা নষ্ট করে লাইসেন্স বিহীন ট্রাকটারে করে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। এতে যেমন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি তেমনি নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত এসব রাস্তা। শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে  চলছে এইসব পুকুর খনন,যা এখনো এক সপ্তাহের বেশি চলবে  উল্লেখযোগ্য রাতোয়াল, মঙ্গল পাড়া, কিছু কিছু জায়গায় তো দিনের বেলায়ও চলে এসব পুকুর খননের কর্মযজ্ঞ।
রাতোয়াল গ্রামের এক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে যারা পুকুর খনন করছে তারা  বিএনপি’র লোক তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পুলিশ এখান থেকে মোটা অংকের টাকা পায় যার কারনে তাদের কিছুই বলে না তারা দিনেও মাটি কাটে রাতে ও মাটি কাটে। আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার আমরা এসব জমিতে আগে কত ধান লাগিয়েছি কেটেছি কিন্তু এখন আর এসব জমির আশেপাশেও যেতে পারি না।
মঙ্গল পাড়া গ্রামের আরো একটি কৃষক জানায়, আমাদের গ্রামের দুই পাশের বিলে যতদূর চোখ যেতো শুধু সবুজ আর সবুজ ধানের চাষ দেখা যেত। কিন্তু এখন যতদূর চোখ যায় শুধু পুকুর আর পুকুর দেখা যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আগের যিনি ছিল তিনিও টাকা খেয়ে এই পুকুরগুলো খনন করতে দিয়েছে। এখন যিনি আছে তিনিও এমন তাছাড়া এখন পুকুর খনন করবে কেন এভাবে৳  এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা খারাপ হয়ে যাব।
নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাণিজ্যিক মাছের পুকুর ও পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি  বিস্তারের কারণে রাজশাহীতে দ্রুত হারে কমে যাচ্ছে উর্বর আবাদি জমি। এতে খাদ্যনিরাপত্তা, মাটির উর্বরতা ও ধানের জমি  নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্বল নজরদারি ও আইন প্রয়োগের অভাবই এর প্রধান কারণ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রাজশাহী জেলায় মোট আবাদি জমি কমেছে ১৬ হাজার ১৫৯ হেক্টর। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ জলাশয় ও নির্মিত এলাকা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যার ফলে স্থায়ীভাবে কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে।
জরিপের তথ্যমতে, ২০১৫ সালে রাজশাহীতে অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৪৪ হেক্টর, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৯৮ হেক্টর। অন্যদিকে বসতবাড়ি, সড়ক ও বাণিজ্যিক স্থাপনাসহ নির্মিত এলাকা বেড়ে হয়েছে ৬২ হাজার ৭২৭ হেক্টর, যা ২০১৫ সালে ছিল ৫৪ হাজার ২৩৩ হেক্টর।
সরকারি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহীর বহু উচ্চ ফলনশীল কৃষিজমি বাণিজ্যিক মাছের পুকুরে রূপান্তর করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই এটি মৃত্তিকা সংরক্ষণ নীতিমালা ও কৃষিজমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন, ২০১৮ লঙ্ঘন করে করা হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে রাজশাহীতে পুকুরের সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৭৮৮টি, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ২৭৫টিতে। বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। তবে কৃষক ও এনজিও কর্মকর্তারা বলছেন, নিবন্ধনহীন ও অবৈধ পুকুরের কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
গত অর্থবছরে রাজশাহীতে মাছ উৎপাদন হয়েছে ৮৪ হাজার ৮০৩ মেট্রিক টন, যেখানে স্থানীয় চাহিদা ছিল মাত্র ৫২ হাজার ৬৩ টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কৃষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপের কারণেই অনেক জমির মালিক কৃষি ছেড়ে মাছচাষে ঝুঁকছেন। কারণ বোরো ধানসহ প্রচলিত ফসলের তুলনায় মাছচাষে লাভ অনেক বেশি।
আঁধারে খনন, সিন্ডিকেটের ছত্রছায়া
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কৃষিজমিতে পুকুর খননের আগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের যাচাই শেষে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই প্রক্রিয়া প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাতের আঁধারে পুকুর খনন করা হয়, যাতে প্রশাসনের নজর এড়ানো যায়।
কৃষকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা অবৈধভাবে পুকুর খনন করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে এসব সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন বিএনপি ও তাদের যুব ও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এতে জড়িত।’
এদিকে রাজশাহীর মাছ ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক কম দামে জমি লিজ পাওয়া যায় এমন আশপাশের জেলাগুলোতে ঝুঁকছেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, পুকুর খননের সময় উর্বর উপরিভাগের মাটি উঠে গিয়ে নিচের অনুর্বর মাটি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবিষ্যতে কৃষিকাজে ফিরলেও জমি আর আগের মতো উৎপাদনক্ষমতা থাকে না। এছাড়া অপরিকল্পিত খননের ফলে প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র জলবায়ু পরিবর্তিত হয় এবং ফসলের রোগবালাই বাড়ে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার, তিনি জানান, অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও রাতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সর্বসত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক জনতার কন্ঠ-২৪/২০২৫ আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার আইনত অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট