নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ একটি বিশেষ দিন। দীর্ঘ সতেরো বছরের নির্বাসনের পর, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশের আকাশে ফিরে এসেছে পরিচিত নাম- তারেক রহমান। এটি কেবল একজন ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়; এটি এক দেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমাপ্তি, এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার অবতরণের মুহূর্তে মানুষের আবেগ, স্মৃতি এবং প্রত্যাশার এক অনির্বচনীয় মিলন ঘটেছে। কংক্রিটের রানওয়ে ছুঁয়ে তিনি শুধু মাটিতে নামেননি; তিনি স্পর্শ করেছেন সময়কে, স্পর্শ করেছেন দীর্ঘকালীন অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাসকে।

আজকের বাংলাদেশে তারেক রহমানকে ঘিরে যে উদ্দীপনা, তা রাজনৈতিক ক্যানভাসের মাত্রা এবং গুরুত্ব উভয়ই নির্দেশ করছে। তার প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যম নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য, ভোটাধিকার, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নতুন বাস্তবতার সূচনা। বিশ্লেষকরা একমত যে, তারেক রহমানের উপস্থিতি সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে- গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের নিজস্ব ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে ব্যবহার করার পরিবেশ তৈরি করা।
তবে এই প্রত্যাবর্তন সহজ ছিল না। ১৭ বছরের নির্বাসনের সময় তারেক রহমানকে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক চাপ ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিদেশে অবস্থানকালে তাকে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। দেশে ফিরে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ কেবল রাজনৈতিক নয়; প্রশাসনিকও। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মানুষের নিরাপত্তাবোধ পুনঃস্থাপন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রসহ উগ্রপন্থীদের হাতে থাকা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা- সবই তার সামনে বড় দায়িত্ব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং কাজ হবে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। ঘোষিত নির্বাচনের সময় গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা এবং এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে- এটাই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা পুনর্নির্মাণের মূল চাবিকাঠি। গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে জনগণই বিচার করবে, কোন নেতা ও নীতিমালা তাদের জন্য যথোপযুক্ত।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যের দিকেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন একদলীয় শাসন, বৈষম্য এবং বিচারহীনতার অভিযোগে বিচ্ছিন্ন ছিল। বিএনপি এবং তারেক রহমানের পুনরায় সক্রিয় উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। এটি কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি ভোটাধিকার, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের পুনর্গঠনের একটি নতুন অধ্যায়।
জনসাধারণের উচ্ছ্বাসও নজরকাড়া। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে তারেক মঞ্চ পর্যন্ত যে মানুষের ঢল, তা কেবল রাজনৈতিক সমর্থনের প্রকাশ নয়; এটি জনগণের প্রত্যাশা, ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নতুন সম্ভাবনার আকাঙ্ক্ষার মিলন। লাল-সবুজে সাজানো বাসে তার যাত্রা যেন দেশের প্রতিটি নাগরিককে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবে উপস্থিত করেছিল। পথে দাঁড়ানো মানুষদের চোখ ভিজে যায়, হাত নেড়ে ভালোবাসা জানায়। এই স্রোতের মতো সমর্থন প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক নেতার প্রত্যাবর্তন কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি পুরো জাতির রাজনৈতিক আশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলিত।
তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রতিটি শব্দ এবং দিকনির্দেশনা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তিনি মঞ্চে উঠে উল্লেখ করেছেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মতোই ২০২৫ সালে সর্বস্তরের মানুষ মিলিত হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সচেষ্ট। আজকের বাংলাদেশে মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। এই বার্তায় স্পষ্ট যে, তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি জনগণের প্রতীক, যারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে, মত প্রকাশ করতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ গড়ার ৩১ দফা কর্মসূচি ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল রাজনৈতিক ইশতেহার নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদর্শনের রূপরেখা, যেখানে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায় এবং অর্থনৈতিক সমতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। দেশের সকল স্তরের মানুষ এই কর্মসূচির মধ্যে স্বচ্ছ, সমান ও ন্যায়সংগত সমাজের প্রতিশ্রুতি দেখছে।
একই সঙ্গে, রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও বড়। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা, মানুষের নিরাপত্তা পুনঃস্থাপন করা, দলীয় বৈষম্য দূর করা এবং প্রশাসনিক সহায়তা লাভ করা- সবই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ। তবে জনগণের সমর্থন, ঐক্য এবং সুসংহত রাজনৈতিক পরিকল্পনা থাকলে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা সম্ভব।
তারেক রহমানের উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও এক নতুন ধারার সূচনা করেছে। দীর্ঘদিন একদলীয় শাসনের কারণে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সমালোচনার পরিবেশ ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল। তার পুনরায় সক্রিয়তা রাজনৈতিক বহুবচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ভোটাধিকার, সংবিধানিক মর্যাদা এবং আইন-শৃঙ্খলার পুনঃপ্রতিষ্ঠা- এই সব বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশেষভাবে, তারেক রহমান জনগণের প্রত্যাশা ও ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতিফলন। তার বক্তব্য, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে’, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এটি কেবল প্রতিশ্রুতি নয়; এটি জনগণের জন্য আশা, যে তারা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে, ভোট দিতে এবং ন্যায়বিচারের পথে অংশ নিতে সক্ষম হবে।
অবশেষে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল রাজনৈতিক কাহিনীর একটি অধ্যায় নয়; এটি জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের প্রতীক। তার নেতৃত্ব, র