বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সুলতানপুর গ্রামে গভীর রাতে দুটি হিন্দু পরিবারের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্বৃত্তরা আগুন দেওয়ার আগে পরিকল্পিতভাবে ঘর দুটির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয় বলে জানা গেছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে পশ্চিম সুলতানপুর গ্রামের দিনমজুর অনিল শীল ও প্রবাসী সুখশীলের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। বিকট শব্দ এবং আসবাবপত্র পোড়ার আওয়াজে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তারা বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। কোনোক্রমে দরজা খুলে বের হয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে বাইরে থেকে শিকল আটকে আগুন দেওয়া হয়েছে।
​ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে একটি বেড়ার সঙ্গে হাতে লেখা একটি ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। ওই ব্যানারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জন্য বর্তমান সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর মতে, এটি একটি অপকৌশল মাত্র। স্থানীয় অধিকাংশ মানুষের ধারণা, প্রকৃত অপরাধীরা নিজেদের আড়াল করতে এবং ঘটনার দায় রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে এই ব্যানারটি টাঙিয়ে রেখেছে।
​সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের মোবাইল ফোনে ধারণ করা সেই ব্যানারের ছবি দেখা গেছে। ছবিগুলো কিছুটা অস্পষ্ট এবং আংশিক হলেও এটি যে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে লেখা, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ রয়েছে। এলাকার সচেতন মহলের মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতেই দুর্বৃত্তরা এমন চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছে।
​খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রহস্যজনক ব্যানারটি জব্দ করে বর্তমানে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এর নেপথ্যে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।