মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজিবপুর উপজেলা পার্টি অফিসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, সদস্য সচিব আবদুল হাই সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন মণ্ডল। আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ রুস্তম মাহমুদ (লিখন), আহ্বায়ক রাজিবপুর উপজেলা যুবদল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দ, সুরমান মেম্বার, আহ্বায়ক রাজিবপুর উপজেলা কৃষক দল, সদর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আকন্দ মোঃ আল আমিন, রাজিবপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ মোখলেছুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
‎আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। তিনি ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করে।
‎মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন। স্বাধীনতার পর তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার শাসনামলে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা, কৃষি ও শিল্প উন্নয়নসহ জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে।
‎বক্তারা আরও বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন এবং “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” দর্শন প্রণয়ন করেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। জাতি আজও তাকে একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক ও গণতন্ত্রের পথপ্রদর্শক হিসেবে স্মরণ করে।
‎সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি কখনো কোনো সুবিধাবাদী জোটের রাজনীতি করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা জাসাসসহ সকল অঙ্গসংগঠনকে সুসংগঠিত করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।